বাসে দীর্ঘ সময়, ট্রেনে টিকিট সংকট, প্লেনে উচ্চ ভাড়ার কারণে সিলেটবাসীর চরম যোগাযোগ ভোগান্তি

বাসে দীর্ঘ সময়, ট্রেনে টিকিট সংকট, প্লেনে উচ্চ ভাড়ার কারণে সিলেটবাসীর চরম যোগাযোগ ভোগান্তি

সুরমার ঢেউ নংবাদ :: বাসে দীর্ঘ সময়, ট্রেনে টিকিট সংকট, প্লেনে উচ্চ ভাড়ার কারণে সিলেটবাসীর চরম যোগাযোগ ভোগান্তি। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ কাজের জন্য ভাঙাচোরা মহাসড়ক দিয়ে সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগে ৯ থেকে ১০ ঘন্টা। কালোবাজারীদের কারণে ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ। আর, প্লেনের ভাড়া ঢাকা-কলকাতার চেয়েও বেশি। ফলে, চরম যোগাযোগ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সিলেটবাসী। এ ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধি ও ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছেন সচেতন সিলেটবাসী। মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলছে সম্প্রসারণ ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ। এ কারণে বন্ধ রয়েছে নিয়মিত সংস্কার কাজও। ফলে, স্থানে স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এ কারণে আগে যেখানে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগতো সাড়ে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা, এখন সেখানে সময় লাগছে ৯ থেকে ১০ ঘন্টা। বেহাল সড়কের কারণে অনেকেই এখন বাসযোগে ঢাকায় যেতে ভয় পান। এতে চাপ বাড়ছে ট্রেন ও প্লেনে।

কিন্তু, সেখানেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সিলেটবাসী। সিলেট থেকে ঢাকায় ৩ জোড়া ও চট্টগ্রামে ২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু, ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুরো ট্রেনের সিট হাওয়া হয়ে যায়। সাধারণ যাত্রীরা টিকিট বুকিং দেয়ার আগেই অনলাইন থেকে টিকিট চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। প্লেনেও কোন নেই স্বস্তি। সিলেট-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ইউএস বাংলার ৪টি, নভো এয়ারের ৩টি ও বাংলাদেশ বিমানের ৩টি ফ্লাইট যাতায়াত করে। এ রুটে এয়ারলাইন্সগুলোর সর্বনিম্ন ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা হলেও, এ মূল্যে টিকিট পাওয়া যায়না। ৩/৪ দিন আগে টিকিট কাটলেও এ মূল্যে টিকিট পাওয়া যায়না। সাড়ে ৪ হাজার টাকার টিকিট ইউএস বাংলা ও নভো এয়ার বিক্রি করছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিক্রি করছে সাড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক রুটের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। বাসে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা পরিহার করতে এবং ট্রেনের টিকিট কালোবাজারীর কারণে যাত্রীরা চড়া দামে প্লেনে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আকাশপথে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এয়ারলাইন্স কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেটের সাথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে প্লেনে যাতায়াত করছেন। এছাড়া পর্যটন মৌসুম হওয়ায় সিলেটের বাইরের প্রচুর পরিমাণ পর্যটক সিলেট আসছেন। এতে যাত্রীর চাপ বাড়ায় নাকি ভাড়াও বাড়ছে।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ট্রেনকে কালোবাজারিমুক্ত করা না গেলে সিলেটবাসীর ভোগান্তি কমবে না। সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত হলে আকাশপথে চাপ কমবে এবং বাস, ট্রেন ও প্লেনের ভাড়াও সহনীয় পর্যায়ে নামবে। তাই, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবী সিলেটবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *