নিজস্ব সংবাদ :: মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও মিথ্যা অপহরণ মামলার বিষয়ে এনসিপি’র সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫ জুলাই শনিবার দুপুরে। শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপি’র আহবায়ক খালেদ হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এহসান বিন জাকারিয়া, সদস্যসচিব রুহুল আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব বিমল কুমার সিংহ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- মৌলভীবাজার জেলা এনসিপি কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য নেতাকর্মীরা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে থেকে রওনা হবার পূর্বমুহূর্তে সংগঠনের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, যুগ্ম সদস্যসচিব কামরুল হাসান, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য জাবেদ রহমান এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব শাফাকাত হোসেন সাদেক-এর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি ও আঘাতের ঘটনাও ঘটে।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে কুলাউড়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালা ও যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রওনা হলে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরে বিএফ শাহীন কলেজের সামনে একই ব্যক্তিরা আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং হামলার ঘটনা ঘটায়। এরপর কুলাউড়ার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য রওনা হবার আগে উপস্থিত নেতাকর্মীদের জানানো হয়, যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মৌলভীবাজারের দিকে ফিরে যান। আমরা কুলাউড়ার কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, আব্দুল্লাহ আল হোসাইনকে ছাত্রলীগ অপহরণ করেছে- এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে জানতে পারি, আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালানো হয় এবং অপহরণের একটি মামলা দায়ের করা হয়। সম্ভাব্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা এড়ানো এবং প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার উদ্দেশ্যেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলায় এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা আহ্বায়ক নিজ উদ্যোগে তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তারা কেউ সাক্ষী হবার বিষয়ে জানতেন না এবং তাদের কারও বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ঘটনার প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করে, জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য গ্রহণ না করে এবং প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই মৌলভীবাজার মডেল থানা তড়িঘড়ি করে মামলাটি গ্রহণ করেছেন। এতে মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। আমরা শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমরা একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং যারা মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে দল ও দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার চেষ্টা করেছে, তাদের উদ্দেশ্যও সবার সামনে স্পষ্ট হবে।

