সুরমার ঢেউ সংবাদ :: মৌলভীবাজার জেলায় এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার ১০০ হেক্টর। কাউয়াদীঘি হাওরপারের বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে এখন বোরো ধানগাছের সবুজ বিস্তৃতি। বোরো ক্ষেতে পানি সেচ, আগাছা পরিষ্কার, বালাইনাশক ছিটানো, সার প্রয়োগ ইত্যাদি নানামুখী পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এমন চিত্রই এখন মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা বিস্তৃত কাউয়াদীঘি হাওরপারের। গত মৌসুমে বন্যার কারণে সৃষ্ট আমনের ক্ষতি পূরণের চেষ্টায় হাওরপারের কৃষকদের মনোযোগ এখন বোরো চাষের দিকে। কাউয়াদীঘি হাওরপারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেতেই চারা রোপণের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে অনেক মাঠে সবুজ হয়ে উঠেছে বোরো ধানের চারা। কয়েকটি ক্ষেতে দেখা গেছে ধানের শীষও গজিয়েছে। সবমিলিয়ে হাওরপারের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন বোরো ধানগাছ বিস্তৃত সবুজের সমাহার।
গত মৌসুমে সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইলকুড়া ইউনিয়নে আমন চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবারে অধিক পরিমাণে বোরো চাষ করা হয়েছে। উপজেলায় এবারে বোরো চাষ করা হয়েছে কচুয়া, একাটুনা, বড়কাপন, উলুয়াইল, বিরাইমাবাদ, রসুলপুর, রায়পুর, বানেশ্রী, জগৎপুর, জুমাপুর, কাদিপুর, মিরপুর, পালপুর, খোজারগাঁও, বুড়িকোনা, গল্লা, কালাইউড়া, খৈসাউড়া, পাড়াশিমুইল, সানন্দপুর, কান্দিগাঁও, লালাপুরসহ হাওরপারের বিভিন্ন মাঠে। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান- জেলায় এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার ১০০ হেক্টর। এর মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে মনু সেচ প্রকল্পে ১০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। এ ১০ হাজার হেক্টর সবটাই আবাদ হবে। কিছু ক্ষেতে পোকার আক্রমণ রয়েছে সামান্য। এখন পর্যন্ত হাওরপারসহ সারা জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশের বেশি জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

