ছালেহ আহমদ সেলিম :: মৌলভীবাজারে ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ মার্চ রোববার। তমদ্দুন মজলিশ মৌলভীবাজার জেলা শাখা ও ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামান পর্ষদের উদ্যোগে জেলা তমদ্দুন মজলিশ সভাপতি এবং ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামান পর্ষদের উপদেষ্টা, লেখক-গবেষক সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু’র সভাপতিত্বে ও খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার’র সঞ্চালনায় মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর সৈয়দ মুজতবা আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বাসস প্রতিনিধি ডা. সাদিক আহমদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক শাহ আব্দুল ওদুদ, চ্যানেল এস প্রতিনিধি খালেদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল রফি উদ্দিন, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল ইসলাম শেফুল, হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব এম খছরু চৌধুরী, এডভোকেট বদরুল ইসলাম, তাছনিম চৌধুরী বীথি, শিক্ষাবিদ বাবুল খান, শিক্ষাবিদ মুজিবুর রহমান, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি খায়রুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জহির খান, শিক্ষাবিদ মুর্শেদ মুন্না ও দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরী।
স্মরণ সভায় বক্তারা জানান- ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক বাংলা ভাষা আন্দোলনে বদরুজ্জামান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সেসময় তিনি এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাকিস্তান সরকারের উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তবে, তিনি কখনও নিজেকে ভাষাসৈনিক পরিচয়ে প্রচার করেননি বা কোনো স্বীকৃতি দাবি করেননি। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিরপুর গ্রামের এ কৃতিসন্তান পেশায় ছিলেন কৃষিবিদ ও সরকারি কৃষি কর্মকর্তা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ছুটই মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। বক্তারা বলেন, ভাষাসৈনিকদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু বলেন- ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্ত্বা রক্ষার সংগ্রাম। তিনি উল্লেখ করেন- বিশ্বে বর্তমানে ৭ হাজারের বেশি ভাষা প্রচলিত। বহুল ব্যবহৃত ভাষার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে সিলেটি ভাষার অবস্থান ৯৭তম। সিলেটি ভাষা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হলেও এর ইতিহাস, গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে স্থানীয় ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। তিনি মাতৃভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্মরণ সভা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভা ও ইফতার মাহফিলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

