সুরমার ঢেউ সংবাদ :: হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস বাস ১২৩টির মধ্যে ১১৫টিরই কোনো রুট পারমিট ও ফিটনেস নেই বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মৌলভীবাজার-সিলেট এসএমএস এক্সপ্রেস বাস মালিক সমিতি। বিআরটিএ এর পরীক্ষার সূত্র উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে- হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে চলাচলকারী ১২৩টি হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস বাসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ৮টি বাসের। বাকি ১১৫টি বাস সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলাচল করছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক শেষে মালিক-শ্রমিক যৌথ সমবেশে মৌলভীবাজারের পরিবহন নেতৃবৃন্দ এ তথ্য জানান। সেইসাথে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির বিষয় বিবেচনা করে সেসময় (১২ মে) থেকেই মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশে মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব ও মৌলভীবাজার-সিলেট রুটের পরিবহন নেতৃবৃন্দ জানান- জেলা প্রশাসক এবং মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান স্বয়ং মৌলভীবাজারের পরিবহন মালিকদের কাগজপত্র যাচাই করেছেন। সংসদ সদস্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বৈধ কাগজ যাদের আছে কেবল তাদের গাড়িই চলবে, অবৈধ কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না।
মৌলভীবাজারের পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ বাস মালিক গ্রুপের ১২৩টি বাসের মধ্যে ১১৫টি বাসেরই রুট পারমিট নেই। বিআরটিএ এর রেকর্ড অনুযায়ী মাত্র ৮টি বাসের বৈধতা পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন এসব গাড়ি কেবল গায়ের জোরে পরিচালনা করা হচ্ছিল- যা এ অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে মালিক সমিতি রাস্তার অবরোধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের ‘এসএমএস পরিবহন’ এবং স্থানীয় সকল লোকাল বাস পুরোদমে চলাচল শুরু হয়। হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস বাসের বিষয়ে স্থায়ী সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তীতে সিলেট বিভাগের তিন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সাথে দ্রুতই একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষ বা যাত্রীরা আমাদের শত্রু নন। হবিগঞ্জ বাস মালিক গ্রুপের অনৈতিক আচরণ এবং তাদের অবৈধ গাড়িগুলোর বিরুদ্ধেই আমাদের মূল আপত্তি ও আন্দোলন।
সমাবেশে ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন এসব অবৈধ গাড়ির ব্যাপারে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয় এবং ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসে না ওঠার জন্য স্থানীয় যাত্রীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়। সেইসাথে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে দেয়া বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে- যাত্রীদের সাথে কোনো ধরনের দূর্ব্যবহার করা যাবে না। ভদ্রতা বজায় রেখে আন্তরিকতার সাথে সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনে বাসে যাত্রীদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে- যার খরচ মালিক পক্ষ বহন করবে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি এমদাদুল হক এমদাদ, আব্দুর রহিম লিটন, ফয়জুল করিম ময়ূন, সাবেক শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন, রোড কমিটির সভাপতি কুতুব মিয়া এবং সিলেটের পরিবহন নেতা শাহাব উদ্দিনসহ মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার শীর্ষস্থানীয় পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে “মালিক-শ্রমিক ভাই ভাই, একসাথে এগিয়ে যাই” স্লোগানের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশটি সমাপ্ত হয়।

