রাজনগরের উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগানের ৫শ একর জমি বেদখলে

রাজনগরের উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগানের ৫শ একর জমি বেদখলে

মোহাম্মদ হায়দার :: জবরদখলে চলে গেছে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগানের প্রায় ৫শ একর ভূমি। কর্তৃপক্ষ নিজেদের দখলে এনে টিলা বেষ্টিত বাগানের জমিতে চারা রোপণকালে স্থানীয়দের মহড়া ও ধাওয়ার মুখে পড়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানীয় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পলিমার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর মালিকানাধীণ উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ হাজার ৮শ ৮২ একর ভূমি নিয়ে অবস্থিত এ দুটি চা বাগানে স্থানীয় বড়দল,হলদিগুল,পূর্বখাস,পশ্চিম খাস,ইন্দানগর পান পুঞ্জি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার ভূমি খেকোরা বছরের পর বছর শতাধিক অবৈধ ঘর-বাড়ি তৈরিসহ যত্রতত্র রাবার বাগান ও আনারস বাগান লাগিয়ে রেখেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি শতক ভূমি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হলে ৫০০ একর বা ৫০ হাজার শতক জমির দাম পড়ে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। উক্ত ভূমি বাগান কর্তৃপক্ষ হাতছাড়া করে আবার দখলের চেষ্টা চালিয়ে শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি বড়দল এলাকায় উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষ টিলা উদ্ধার করে চা রোপণ করতে গেলে স্থানীয়দের ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ইয়াছিন আরাফাত রাজনগর থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি উত্তরভাগ মৌজার ৩ নং খতিয়ানের ৭৬৭ নং দাগে ২০ দশমিক ৮১ একর টিলাবেষ্টিত জমি আছে। ওই ৬ একর জমি নিয়ে স্থানীয় মোঃ ইউনুছ মিয়ার সাথে বাগানের মামলা চলছে।
৫ একর জমি গ্রামের আরো ৩ ব্যক্তি জবরদখল করে রেখেছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ বেদখলি জমি থেকে সরিয়ে যাবার কথা বলায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শ্রমিকদের উপর ধাওয়া ও ককটেল ফুটিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনায় সাবেক উত্তরভাগ ইউপি চেয়ারম্যান শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক, শাহ আতার আলী, শাহ সাইফুল ইসলাম,জয়নাল মিয়াসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বাগানের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দুটি বাগানের ৫শ একর জমি হাতছাড়া হয়ে আছে। তাদের দেড়’শ একর জমিতে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। তারা বলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়াম্যান ও ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাগানের জমি বেদখল করে আনারস ও আগর বাগান করেছেন। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পূর্বখাস এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি দখল করে আগর গাছ লাগিয়েছেন। তারা বলেন, বাগানের অবৈধ দখলকৃত ৫শ একর জমি থেকে বছরে ২ কোটি টাকারও বেশি আয় করা যেত। ওই জমি বেদখলে যাওয়ায় বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগান ব্যবস্থাপক মোঃ লোকমান চৌধুরী বলেন, বাগানের ভূমি দখল করতে সম্প্রতি বড়দল এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক’র নেতৃত্বে একটি গ্রুপ নিয়ে মহড়া চালিয়েছে। এতে আমাদের শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বাগানের পূর্বখাসে প্রায় ৫ একর জমি দখল করে আগর বাগান করেছেন।
বড়দল গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই তফসীলের ৬ একর জমিতে বাগানের সাথে আমাদের মামলা চলছে। মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা আদেশসহ ওই জমি থেকে বাগানকে কেবল চা উত্তোলনের কথা বলেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ ডিঙ্গিয়ে টিলায় চা রোপণ করেছে। আমরাও থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
উত্তরভাগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক বলেন, আগের কৃষকেরা জমির কাগজ পত্র বুঝে নাই। বাগান কর্তৃপক্ষ ভূয়া কাগজ বানিয়ে রেকর্ড করে বিভ্রান্ত করেছে। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে। রাজনগর থানার এসআই ও তদন্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ওই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। আমি সরেজমিনে গিয়েছি। ঘটনা ঠিক আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *