সুরমার ঢেউ সংবাদ :: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কারও অভিযান চালানোর এখতিয়ার নেই’ বলার পরপরই ‘অভিযান চালিয়েছে ছাত্ররা’। অনলাইন ঢাকাপোস্টসহ কয়েকটি পত্রিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবকে খুঁজে বের করার লক্ষ্যে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এ ছাত্রদের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
৬ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ‘পল্লবী থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক’ পরিচয়ে শেখ তারেক জামিল তাজের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল যুবক জোরপূর্বক মিরপুর ডিওএইচএস এর একটি বাসায় প্রবেশ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- অভিযানের সময় শিক্ষার্থীরা বাড়ির মালিক ও স্থানীয় কমিটির সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করেন। তারা বাসার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সাবেক এমপি মোতালেবকে খোঁজ করেন। বাসার লোকজন জানান, তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি। বাসার ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতি দেখে কেউ একজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পল্লবী থানার এসআই হুমায়ুন আহমেদ বলেন- আমি পৌঁছানোর আগেই দলটি বাসায় ঢুকে পড়ে। বাসার মালিক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায়। ছাত্ররা সেই বাসায় কাউকে পায়নি। পরে আমি সেটি ঊর্ধ্বতনদের জানাই এবং ওসি স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী ছাত্রদের চলে যেতে বলি। কয়েকজনকে সঙ্গে করে থানায় নিয়ে এলেও তাজসহ কয়েকজন সেখানে থেকে যায়।
শেখ তারেক জামিল তাজের দাবি- এটি কোনো অভিযান ছিলোনা, তারা পুলিশকে জানিয়েই গিয়েছিলেন, তবে, পরে পুলিশ এসেছে। শিক্ষার্থীরা জানান- সাবেক এমপি মোতালেবকে ওই বাসায় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তারা পৌঁছানোর আগেই মোতালেব হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন বলে তাদের ধারণা।
ছাত্রদের এ অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কেউ কোনো অভিযান চালাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন- মব তৈরি করে অপরাধ হচ্ছে। তবে, সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু, তার বক্তব্যের পর পরই ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করলো। তাই, ছাত্রদের এমন তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

