বড়লেখা বিএনপিতে প্রকাশ্য গ্রুপিং নিরসনে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ব্যতিত পথ দেখছেন না নেতাকর্মীরা

বড়লেখা বিএনপিতে প্রকাশ্য গ্রুপিং নিরসনে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ব্যতিত পথ দেখছেন না নেতাকর্মীরা

খলিলুর রহমান, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বড়লেখা উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ লাভ করছে। মহান বিজয় দিবসে একইদিনে পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির গ্রুপিং আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মহান বিজয় দিবসের দুপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে বড়লেখা পৌরশহরে বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর নেতৃত্বে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি নছিব আলী, সাবেক সহ-সভাপতি আলাল উদ্দিন, সাবেক আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ ললনসহ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, একইদিন বিকেলে পৌর বিএনপির ব্যানারে পৃথক বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা শরীফুল হক সাজুর নেতৃত্বে। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রাজা চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামছুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, বিএনপির সিনিয়র নেতা সেলিম চৌধুরী, হারুনুর রশীদ, মহিলা দলের সাবেক সভাপতি আমিনা বেগম ডলি, কাতার বিএনপির নেতা আব্বাস উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদির পলাশ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মালিক, জাসাস নেতা রায়হান মো. মুজিবসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির গ্রুপিং প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু বলেন- মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত দলে মতভেদ থাকতে পারে। তবে, যারা প্রকৃত বিএনপির রাজনীতি করে, তারা কখনও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন- কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি দলের ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। গ্রুপিং নিরসনে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দেয়া হলেও এখনও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দলের কয়েকজন সিনিয়র ও তরুণ নেতা বলেন- মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ও তার অনুসারীদের কারণে দলের অভ্যন্তরে যে দূরত্ব ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ব্যতিত নিরসন হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা অনতিবিলম্বে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপন কামনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *