মৌলভীবাজারের কাগাবলায় একসনা ইজারা বাতিল ও জবরদখল উচ্ছেদ হচ্ছেনা ১০ মাসেও

মৌলভীবাজারের কাগাবলায় একসনা ইজারা বাতিল ও জবরদখল উচ্ছেদ হচ্ছেনা ১০ মাসেও

নিজস্ব সংবাদ :: মৌলভীবাজারের কাগাবলা বাজারে খাস ভূমির একসনা ইজারা বাতিল ও ইজারা বহির্ভূত খাস ভূমির জবরদখল উচ্ছেদ হচ্ছেনা আবেদনের দীর্ঘ ১০ মাসেও। আনুমানিক দুইবছর যাবৎ ইজারা নবায়ন না হওয়া সত্তেও ইজারাকৃত খাস ভূমির দখল ও ইজারা বহির্ভূত খাস ভূমির জবরদখল অব্যাহত রেখেছেন ইজারাদার কাগাবলা গ্রামের আনোয়ার মিয়া। তিনি জেলা পরিষদের নামীয় ১২৮নং জেএলস্থিত কাগাবলা মৌজার এসএ ২নং খতিয়ানের ২৫৫১নং দাগে স্কুল রকম ০.১৯ একর ভূমির ৯৬০ বর্গফুট (০.০২২ একর) ভূমি একসনা ইজারা নিয়েছেন। উক্ত ০.১৯ একর ভূমি বর্তমান আরএস জরিপকালে পরিবর্তন করে আরএস ১নং খতিয়ানে স্কুল রকম ৩১৬২নং দাগে বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভূক্ত রয়েছে। আনোয়ার মিয়া ৯৬০ বর্গফুট ভূমি একসনা ইজারা নিয়ে ক্রমশঃ জবরদখল করেছেন যাত্রীছাউনীসহ আনুমানিক ০.০৭ একর ভূমি এবং উক্ত ভূমিতে পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা দোকানগৃহ তৈরী করে বিভিন্নজনকে ভাড়া দিয়েছেন। এতে বাজারের স্থান সংকুচিত হবার ফলে, সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ীক সমস্যা, পার্কিংয়ে বিঘœ, জনচলাচলে বিঘœ, যানজট বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা সমস্যা চলে আসছে দঢর্হদিন যাবৎ। বাজারের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাস্তাটির বাজারাংশে মাঝে মাঝেই ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। আনুমানিক বছরদশেক পূর্বে বাজারস্থ যানজটে থেমে থাকা বাঁশ বোঝাই একটি পরিবহণে আরেকটি পরিবহনের ধাক্কা লেগে বাঁশের আঘাতে ১০ বছরের এক স্কুলশিশু মারাত্নক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এসব নানা সমস্যার কারণে অতীষ্ট হয়ে স্থানীয় লোকজন উক্ত ইজারা বাতিল ও জবরদখল উচ্ছেদের দাবীতে গত ১৬ জুন ২০২৫ সালে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সদর ইউএনও বরাবর আবেদন করেন (ইউএনও অফিসের ডকেট নং- ৮৬৬, তাং- ১৭/০৬/২০২৫)।
এরপর থেকে সংশ্লিষ্টরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে, কিছুদিন পর পর ৪ বার প্রধান নির্বাহীর সাথে দেখা করে সহায়তা কামনা করেন। একপর্যায়ে প্রথমে একজন সহযোগীসহ জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী এনামুল হক এবং পরবর্তীতে ২১ জুলাই ২০২৫ সালে প্রধান নির্বাহী বেগম শামীমা খন্দকার সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর সংশ্লিষ্টদেরকে জানান, ইজারা বহির্ভূত ভূমির সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু, দীর্ঘদিনেও কোনকিছুই করা হয়নি।
অপরদিকে, তৎকালীন সদর ইউএনও মোঃ তাজ উদ্দিন ১৩/০৭/২০২৫ইং তারিখে ৫৪৯নং স্মারকে ‘এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য’ সদর এসি (ল্যান্ড)-কে নির্দেশনা দেন (এসিল্যান্ড অফিসের ডকেট নং- ৭২২, তাং- ২১/০৭/২০২৫)। এর প্রেক্ষিতে তৎকালীন এসি (ল্যান্ড) মোঃ আসলাম সারোয়ার ২১/০৭/২০২৫ইং তারিখের ৬০৭নং স্মারকে ‘বিষয়টি সরেজমিন তদন্তক্রমে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য’ ইউএলএও, শমসেরগঞ্জ, মৌলভীবাজার সদর-কে নির্দেশ দেন (ইউএলও, শমসেরগঞ্জ’র ডকেট নং- ৭৩, তাং- ২২/০৭/২০২৫)। এর প্রেক্ষিতে ইউএলএও অলক চন্দ্র সেন সরেজমিন তদন্ত করে ০৪/০৯/২০২৫ইং তারিখের ২০৯নং স্মারকে এসএ পর্চা, আরএস পর্চা ও দাগের সূচি সংযুক্তিসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এরপর ৪/৫ মাসেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় সংশ্লিষ্টরা বর্তমান এসি (ল্যান্ড) লুৎফুন নাহার শারমিনের সাথে দেখা করে এ বিষয়ে সহায়তা কামনা করলে, তিনিও তার অফিসের সার্ভেয়ারকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার আবু সায়েম মামুন সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু, এসি (ল্যান্ড) কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্টদেরকে জানান- জেলা পরিষদ উক্ত ভূমির রেকর্ড সংশোধন করার জন্য বলেছে। আমি এ বিষয়ে জেলা পরিষদে চিঠি পাঠাবো এবং ওই চিঠির এককপি আপনাদেরকেও দেবো। এসি (ল্যান্ড) এর এমন বক্তব্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- বিষয়বস্তু কি আর এসি (ল্যান্ড) বললেন কি ? আরএস রেকর্ড সংশোধনের ক্ষমতা কি এসি (ল্যান্ড) এর আছে ? জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এসি (ল্যান্ড)-কে আরএস রেকর্ড সংশোধন করতে বলেন কিভাবে ?
আবেদনকারীরা একসানা ইজারাকৃত ও জবরদখলকৃত ভূমিতে স্থাপনা নির্মানের কারণে সৃষ্ট সমস্যসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করে জানান- আমরা উক্ত একসনা ইজারা বাতিল ও জবরদখল উচ্ছেদের দাবীতে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সদর ইউএনও বরাবর আবেদন করেছি। কিন্তু, রহস্যজনকভাবে দীর্ঘ ১০ মাসেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
কাগাবালা ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার স্বাধীন মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ফুল মিয়া, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খছরু নবী ও লন্ডন প্রবাসী শাহীন আহমদ বলেন- বাজারের পাশে রয়েছে স্কুল, ইউপি অফিস, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। রয়েছে অটোরিকশা, টমটম, বেটারী চালিত রিকশা, ভ্যান, মিনিট্রাক পার্কিং। কিন্তু, বাজারের অভ্যন্তরের সরকারী ভূমিতে স্থাপনা নির্মান করায় সংলগ্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীক সমস্যা, পার্কিংয়ে বিঘœ, জনচলাচলে বিঘœ, যানজট বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, জনস্বার্থে উক্ত একসনা ইজারা বাতিল ও জবরদখল উচ্ছেদের দাবী জানাচ্ছি।
ইজারাদার আনোয়ার মিয়ার পুত্র কবির উদ্দিন বলেন- আমার পিতা ১৯৯০ সালে উক্ত ভূমি জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নিয়েছেন। নিয়মিত নবায়ণ করা হচ্ছে। যাত্রীছাউনিতে কোন দোকান দেইনি। তিনি ইজারার প্রমানক হিসাবে পুরনো কিছু কাগজপত্র প্রদর্শন করেন- যা দুইবছর যাবৎ হালনাগাদ নয়।
এদিকে, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ১৪ এপ্রিল দুপুরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী এ সংঘর্ষকালে ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন দুইপক্ষের আনুমানিক ২০ জন। তারা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনাটি সালিশে মিমাংসা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আগেও এ বিষয়কে কেন্দ্র করে কাগাবলা বাজারে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো। পরে দুইপক্ষের মধ্যস্থকারীরা তা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন।
এমতাবস্থায়, জরুরী ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে উক্ত খাস ভূমির একসনা ইজারা বাতিল ও ইজারা বহির্ভূত খাস ভূমির জবরদখল উচ্ছেদ করা না হলে, যেকোন সময় দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হতাহতের মতো বিয়োগান্তক ঘটনা সংঘটিত হবার চরম আশংকা বিদ্যমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *