সুরমার ঢেউ সংবাদ :: মৌলভীবাজারে শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ এপ্রিল সোমবার। সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক-গবেষক, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আহমদের সভাপতিত্বে শহরের একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন সহকারী শিক্ষক মিফতাহুজ্জামান সাজু।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম ১ নভেম্বর ২০১৫ সালে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে অনিয়ম-দূর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। অনিয়ম-দূর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিদ্যালয়টি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ২০১৮ সাল থেকে বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীন কোন অডিট কার্যক্রম নেই। ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা শিক্ষক প্রতিনিধিরা অডিটের কথা বললে তিনি নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। তিনি তার নিজস্ব লোকজনকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতেন। তারা দিনের পর দিন অনুপন্থিত থাকলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নিতেন না। বিধি মোতাবেক প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে শিক্ষকরা বঞ্চিত ছিলেন। নতুন শিক্ষকদের বাড়ী ভাড়ায় তিনি চরম বৈষম্য করেছেন। ছাত্রীদের বেতন ও ভর্তি ফি অনলাইনে নেয়ার কথা থাকলেও, তিনি রশিদ প্রদান ছাড়াই হাতে হাতে গ্রহণ করতেন। ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।
বিদ্যালয়ের মূল তহবিলে এফডিআর হিসেবে থাকা ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ২৬৬ টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের অডিট রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ ১ হাজার টাকা তছরুফের অভিযোগ উঠলে, তিনি কৌশলে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তার মনমতো কমিটি গঠন করে সে যাত্রা রক্ষা পান। বিভিন্ন সময় লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ ধরা পড়লেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি নিজেকে রক্ষার্থে ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ইং, তার দায়িত্ব পালনে যাতে কোন বাধা সৃষ্টি করা না হয় সেমর্মে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বিদ্যালয় সভাপতি জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটিসি) সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ, সদর আদালতে ৫২/২০২৫নং মামলা দায়ের করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনকারী শিক্ষক ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় এবং বিদ্যালয়কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিনিয়র শিক্ষক শ্যামলী রানী চন্দ, তৈয়ব আলী মীর এবং মিফতাহুজ্জামান সাজু।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন অভিভাবক ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা, লেখক ও গবেষক ডক্টর মোঃ আবু তাহের। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, নির্মল চন্দ্র কাপালী, শান্তনা রানী, আফরোজা খাতুন, সেলিম রেজা, সরোয়ার হোসেন বাদল ও শিক্ষক সুমন কান্তি। এছাড়াও, অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

