রাজনগর উপজেলার টেংরা-তারাপাশা সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ

রাজনগর উপজেলার টেংরা-তারাপাশা সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ

মোহাম্মদ হায়দার :: মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা-তারাপাশা সড়কের বেহালদশায় ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। টেংরা ইউনিয়নের দেওয়ান দিঘির পাড় হতে কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশা বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কে খানা খন্দের জন্য ভোগান্তিতে রয়েছেন দুই ইউনিয়নের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে মেরামত কাজ না হওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। এতে বড় সমস্যায় পড়েছেন এ দুটি ইউনিয়নের মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। মনু নদীর বালু মহালের ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে বলেই মনে করেন উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয়রা।
এদিকে, সড়কটি মেরামতের জন্য ১৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবনা থাকলেও তা এখনো পাস হয়নি। ফলে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়কপথে যাতায়াতকারিরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- রাজনগর উপজেলার জনবহুল ইউনিয়ন কামারচাক। মৌলভীবাজার ও রাজনগরের সঙ্গে এ ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেংরা-তারাপাশা সড়ক। কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়কের দেওয়ানদিঘির পাড় হতে দক্ষিণ দিকে কামারচাক ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে রাজনগরের সীমানা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এরপর রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়ন। এ সড়ক দিয়েই কামারচাক ইউনিয়ন ছাড়াও টেংরা ইউনিয়নের একাংশের মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়াও, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার, কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একটি মাধ্যম ওই রাস্তাটি।
কামারচাকের তারাপাশা থেকে টেংরা পর্যন্ত এই ৫ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে ভেঙ্গে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ভারি যানবাহন চলাচলে রাস্তায় ধস নেমেছে। কার্পেটিং উঠে এবড়ো-থেবড়ো হয়ে পড়েছে। গর্ভবতী নারী ও রোগীদের নিয়ে চলাচল করতে বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দরা।
মনু নদীর বালু মহালের বালু পরিবহনে ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি দ্রুতই ভেঙ্গে যাচ্ছে। নিয়ম না মেনে ভারী ট্রাক চলাচল করায় এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তারাপাশা বাজারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামছুল ইসলাম বলেন- তারাপাশা থেকে টেংরা পর্যন্ত যাতায়াতেই যতো ভয়। গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। পুরো সড়কই গর্তে ভরা। প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও, সড়ক ভাঙ্গাচুড়ার অজুহাতে চালকরা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
তারাপাশা বাজারের সিএনজি অটোরিক্সা চালক মইনুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে মৌলভীবাজার-রাজনগর যাত্রী নিয়ে দিনে কয়েকবার যেতে হয়। কিন্তু সড়ক এতই ভাঙ্গা যে এতে প্রতিদিনই গাড়ির যান্ত্রিক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
শালন গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী হুমায়ুন খান বলেন- আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আমাদের জন্য রাস্তা নয়, এটা যেন মরণ ফাঁদ। মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া, ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।
কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন- ৫ কিলোমিটার এ সড়কের কারণে লোকজনের খুব সমস্যা হচ্ছে। বিশেষকরে রোগী ও গর্ভবর্তী নারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে, মেরামতের জন্য উপজেলা প্রকৌশল অফিস একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠিয়েছে। পাস হয়ে গেলে কাজ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী।
রাজনগর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নাহিদ আহমদ বলেন- টেংরা তারাপাশা সড়কের রাজনগরের সীমা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের মেরামতের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রাক্কলিত বাজেট করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাস হলেই সড়ক মেরামত কাজের টেন্ডার করা হবে। বালু পরিবহনে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি দ্রুতই ভেঙ্গে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *