সুরমার ঢেউ সংবাদ :: মৌলভীবাজারে এক নারীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের অভিনয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় ব্যাপক বিতর্কিত মোছাঃ শিরিন আক্তার (২৭) নামীয় ওই নারী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নস্থিত চিৎলীয়া (আংশিক যুগীবিল) গ্রামের নাগরিক বিলকিস বেগম ও আরব আমিরাত প্রবাসী নাজির মিয়া দম্পতির কন্যা।
মায়ের প্রশ্রয় ও সহযোগীতায় ছোটবেলা থেকেই অনৈতিক কর্মকান্ডে অভ্যস্থ হয়ে পড়া শিরিন বিভিন্ন নামে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও টিকটক আইডির মাধ্যমে দেশী-প্রবাসী বিভিন্ন পুরুষের সাথে প্রেমের অভিনয় করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। তার এ ধরণের কর্মকান্ডের একাধিক অডিও ভিডিও কলরেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে।
জানা যায়- পিতা নাজির মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসী থাকার সুবাদে মা বিলকিস বেগমের প্রশ্রয় ও সহযোগীতায় ছোটবেলা হতেই বখে যাওয়া শিরিন মাঝেমধ্যে উধাও হয়ে যেতো। মাস-দেড়মাস পর আবার ফিরে আসতো। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মায়ের সাথে দূর্ব্যহার করতো। এ নিয়ে একবার লোকজনের সামইে মা বিলকিস বেগমকে ঝাড়ুপেটা করেছিলো। একারণে বিলকিস বেগম বিষপান করেছিলেন।
এ ঘটনার পর প্রবাসী পিতা নাজির মিয়া আত্বীয়-স্বজনদের মাধ্যমে শিরিনকে বিয়ে দিয়েছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভাধীন কুমড়াকাপন গ্রামের নাগরিক কাঠমিস্ত্রি জসিম মিয়ার সাথে। নানা ঘটনা ও অসদাচরনের মধ্য দিয়ে বছর দুয়েকের সংসারজীবনে তারা একটি কন্যাসন্তান লাভ করে। কন্যাসন্তান জন্মের পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং কার্যকারণে স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক পরপুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
এসময় কাঠমিস্ত্রি স্বামী জসিম মিয়ার সাথে শিরিনের অসদাচরণ চরম আকার ধারণ করলে জসিম মিয়া শ্বশুর-শ্বাশুরীর কাছে বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু, তারা উল্টো মেয়ের পক্ষ নিয়ে তাকে হেনস্থা করেন। এর কিছুদিন পর ঝগড়ার জের ধরে স্বামী জসিমের ঘর থেকে পালিয়ে শিরিন তার পিত্রালয়ে পালিয়ে যায় এবং একের পর এক নানা ঘটনার একপর্যায়ে আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সালিশের মাধ্যমে স্বামী জসিমকে তালাক দেয়।
এরপর নতুনকরে শুরু হয় শিরিনের প্রতারণা ও প্রেম প্রেম খেলা। এরই ধারাবাহিকতায় শিরিনের অনৈতিক সম্পর্কের জালে ধরা পড়ে ভানুগাছ বাজারস্থিত একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষী ‘টিটু’। বিলকিস বেগম ছত্রছায়ায় সে প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে শিরিনের কাছে আসা যাওয়া করতে থাকে। একপর্যায়ে টিটু ও শিরিনকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসী। এসময় শিরিনের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় স্বীকার করে টিটু জানায়- বিলকিস বেগম আমাকে শিরিনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে দিয়েছেন। একদিন আমি না আসলে বিলকিস বেগম আমার কর্মস্থল ব্যাংকে গিয়ে আমাকে শিরিনের কাছে আসার অনুরোধ করেন। উনার অনুরোধেই আমি শিরিনের কাছে আসা-যাওয়া করি। পরে এলাকাবাসী লিখিত মুচলেকা নিয়ে টিটুকে তাড়িয়ে দেয়।
এরপর শিরিন কিছুদিন বিরত থেকে ঘটকদের মাধ্যমে ২০১৯ সালে করোনা মহামারীকালে একই গ্রামের কাইয়ুমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কাইয়ুম দীর্ঘদিন গ্রামে না থাকায় গ্রামের সব মানুষকে চিনতেন না। শিরিনের অতীত কর্মকান্ড সম্পর্কেও জানতেন না। অনেকটা তাড়াহুড়া করেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এসব জানলেও তার করার কিছুই ছিলোনা। অপরদিকে, শিরিনও পর্যায়ক্রমে স্বমুর্ত্তীতে আবির্ভূত হতে থাকে। এসময় কাইয়ুম কিছুদিনের জন্য প্রবাসী হয়। কাইয়ুমের অবর্তমানে শিরিন বেপরোয়া হয়ে উঠে। সংসার, শ্বাশুড়ী, পাড়া-প্রতিবেশীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অতীতের ন্যায় বিভিন্নজনের সাথে প্রেমের অভিনয়ে প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসময় শিরিন ওমান প্রবাসী এক ছেলের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে মা বিলকিস বেগমের বিকাশ একাউন্টে টাকা আনে। বিভিন্ন পণ্য এমনকি মোবাইল ফোনও উপহার আনে।
কাইয়ুম বিভিন্ন সূত্রে এসব জানতে পেরে দেশে চলে আসেন এবং শ্বাশুড়ী বিলকিস বেগমকে এসব জানালেও, তিনি এসব মিথ্যা বলে এড়িয়ে যান। এদিকে, শিরিনের আরও একাধিক লোকের সাথে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও টিকটক আইডির মাধ্যমে প্রেম প্রেম খেলা, অশালীন চলাফেরা, পাড়া-প্রতিবেশিদের একজনের সাথে আরেকজনের ঝামেলা ও ঝগড়া বাঁধানোসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে ধরা পড়ে কাইয়ুমের সাথে বিরোধ ও ঝগড়া-ঝাটি শুরু করে। একপর্যায়ে কাইয়ুমের জরুরি কাগজপত্রসহ বেশকিছু দামি জিনিসপত্র নিয়ে শিরিন তার পিত্রালয়ে পালিয়ে যায়। তার প্রেমিকরা ফোনে কাইয়ুমকে হুমকি দিতে থাকে। বাধ্য হয়ে কাইয়ুম গত ১৩/০৯/২০২২ইং শিরিন ও তার প্রেমিকদের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় জিডি করে। জিডি করার খবর জানতে পেরে শিরিন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে আবার কাইয়ুমের সংসারে আসার চেষ্টা চালায়। কাইয়ুম গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মানার্থে শিরিনকে আবার গ্রহণ করেন। এ যাত্রায় কাইয়ুম বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে শিরিনকে পরিবর্তনের চেষ্টা চালান। কিন্তু, ‘চোরে না মানে ধর্মের বাণী’ প্রবাদ বাক্যের মতোই শিরিনের কোনই পরিবর্তন হয়না। এমনি অবস্থার মাঝে একদিন ব্যক্তিগত কাজে কাইয়ুম ঢাকায় গেলে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র, গহনাগাটি, নগদ টাকা, নোটবুক থেকে জরুরী ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ডসহ ইমেইল আইডি ইত্যাদি চুরি করে নিয়ে ১ মার্চ ২০২৩ সালে রাতের অন্ধকারে শিরিনি আবারও তার পিত্রালয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কাইয়ুম ঢাকা থেকে স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক ইউপি মেম্বারসহ পাড়া-প্রতিবেশীকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তারা তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তাকে জানান। পরদিন কাইয়ুম বাড়ি ফিরে শিরিনের সাথে যোগাযোগ করলে শিরিন ও তার মা-ভাই তাকে গালাগাল করে এবং শিরিনের প্রবাসী পিতা নাজির মিয়ার ভাড়াটে সন্ত্রাসীর তাকে হুমকি-ধমকী দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ৮ মার্চ ২০২৩ সালে বর্তমান ইউপি মেম্বারের মধ্যস্থতায় মেম্বারের বাড়িতেই অনুষ্ঠিত শালিসে তালাকের মাধ্যমে শিরিন-কাইয়ুম বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
এর কিছুদিন যেতে না যেতেই শিরিন আবারও কাইয়ুমের সংসারে আসার চেষ্টা চালায়। এলাকার লোকজনসহ তার চাচাকেও কাইয়ুমের কাছে পাঠায়। শিরিন নিজেও ফোন করে কান্নাকাটি ও অনুনয় বিনয় করলেও কাইয়ুম তা প্রত্যাখ্যান করে অন্যত্র বিয়ে করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিরিন প্রেমিকদেরকে দিয়ে দেশে-বিদেশে কাইয়ুমের আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছে মানহানিকর কুৎসা রটনা করতে থাকে। এ খবর জানতে পেরে কাইয়ুম আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান এবং ৭, ৮, ও ৯নং ওয়ার্ড মেম্বারকে বিষয়টি অবগত করেন এবং ২৫ জুলাই ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো কমলগঞ্জ থানায় জিডি করেন।
জসিম মিয়ার স্ত্রী থাকাকালে শিরিনের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিরিনের প্রথম স্বামী জসিম মিয়া। তিনি বলেন- শিরিন কোনদিন আমার স্ত্রী ছিলো একথা বলতে আমার ঘৃনা হয়। শিরিন খারাপ হবার পিছনে মূল ভূমিকা তার মা বিলকিস বেগমের।
অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় টিটু ও শিরিন এলাকাবাসীর হাতে আটক হবার বিষয় নিশ্চিত করেছেন শিরিনের পিত্রালয় এলাকার একাধিক ব্যক্তি। তারা শিরিন ও তার পিতৃপরিবারের নষ্টামির বিবরণও দেন।
৭নং ওয়ার্ড মেম্বার জসিম উদ্দিন পূর্বের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে, কাইয়ুমের সাথে তালাক হবার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানান।
শিরিনের সকল তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করে শিরিনের দ্বিতীয় স্বামী কাইয়ুম জানান- আপনি তো সামান্যই লিখেছেন। শিরিনের আরও অনেক কিচ্ছা-কাহিনী রয়েছে। সে মোবাইল ফোন ও পরপুরুষে আসক্ত। ফারজানা চৌধুরী, তানিশা, শিরিন আক্তার সানজিদা, রাজকন্যা, তিশা-তানিশা, মিম ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও টিকটক ইত্যাদিতে আইডি তৈরী করে দেশে-প্রবাসে এমনকি স্কুল কলেজের ছাত্র, পুলিশ, সেনাসদস্য, বিজিবি সদস্য ও বিত্তশালী লোকজনের সাথে বন্ধুত্বের মাধ্যমে প্রতারণা করে। তার এ ধরণের কর্মকান্ডের একাধিক অডিও ভিডিও কলরেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে। আমার স্ত্রী হয়েও সে পুলিশ কনেস্টবল মোঃ মাছুদ আহম্মেদ ও বিজিবি সদস্য মুন্না খান চৌধুরী (খালেদ) নামের ছেলেদের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক করেছে। আমি শাসন করতে গেলে তার মা-বাবা তার পক্ষ নিয়ে উল্টো আমাকে দোষী বানানোর চেষ্টা করেছে। তার পিতৃপরিবারের নানা অপকর্ম ও নষ্টামীর ঘটনাবলী উল্লেখ করে কাইয়ুম জানান- শুধু তাই নয়, শিরিন তার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ৩ মাসের মধ্যে ফেরৎ দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলো। পরে তার সাথে তালাক হলেও আজ পর্যন্ত সেই টাকা ফেরৎ দিচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে আমি মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমল আদালতে মামলা (সিআর নং- ৩৭৩/২৩ (কমলগঞ্জ) দায়ের করেছি- যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক প্রতিবেশী জানান- শিরিন প্রতিদিন ভোররাত পর্যন্ত ফোনালাপে ব্যস্ত থাকে। সে ও তার মা-বোন প্রায়শঃ দিনরাত ঝগড়াঝাটিতে লিপ্ত থাকে। তাদের অশ্লীল গালিগালাজ ও অশালীন চালচলনে সবাই বিরক্ত, লজ্জিত। তারা এদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

