৫৫ বছর পর মালিকানা ফিরে পেলেও জমির দখল মিলছে না, জুড়ীতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

৫৫ বছর পর মালিকানা ফিরে পেলেও জমির দখল মিলছে না, জুড়ীতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আল আমিন আহমদ:: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায়ে জমির মালিকানা ফিরে পেলেও এখনো জমির দখল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে জমির দখল ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন জমির মালিক নিখিল চন্দ্র দাসের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস।
পরিবারটির দাবি, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় এসএ খতিয়ান ১২৫ ও আরএস খতিয়ান ২৬০-এর আওতাধীন এসএ দাগ ১৪০৩ ও ১৪০৪ এবং আরএস দাগ ১৬৭১ ও ১৬৭২-এ তাদের মোট ৩ একর ৭ শতক জমি রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জমিটির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্দ্র কুমার দাস। বারিন্দ্র কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ার পর সম্পত্তির মালিকানা জিতেন্দ্র কুমার দাসের কাছে আসে। পরে জিতেন্দ্র দাস তাঁর সম্পত্তি জ্যেষ্ঠ ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসের নামে দলিল করে দেন।
তবে ১৯৭০ সালে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে জমির একটি বড় অংশ স্থানীয় কয়েকজনের নামে একসনা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, পরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিজেদের জমির মালিকানা ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন নিখিল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি আদালতের রায়ে জমিতে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর সরকারি বন্দোবস্ত বাতিল করে তাঁর নামে জমি নামজারি করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
কিন্তু মালিকানা ফিরে পেলেও জমির বাস্তব দখল এখনো পাননি বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে ওই জমিতে ১৭ জন ব্যক্তি বসবাস করছেন। তাদের উচ্ছেদ করে জমি বুঝিয়ে দিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার ভূমি দখলদারদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছেন।
এদিকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এগোয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা কারও সঙ্গে বিরোধে যেতে চায় না। এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেই প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের জমির দখল ফিরে পেতে চান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিখিল চন্দ্র দাস আদালতের রায়ে ৩ একর ৭ শতক জমির মালিকানা ফিরে পেয়েছেন। জমিতে থাকা ১৭ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কাগজে-কলমে মালিকানা ফিরে পাওয়ার পর এখন বাস্তবে জমির দখল ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় নিখিল চন্দ্র দাসের পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *