সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় আবাদি জমির মাটি লুটের মহোৎসব

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় আবাদি জমির মাটি লুটের মহোৎসব

সুরমার ঢেউ সংবাদ :: সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় অবাধে চলছে আবাদি জমির মাটি লুটের মহোৎসব। জনৈক সাজিদ মিয়ার নেতৃত্বে মাটি লুটের মহোৎসব চললেও নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় চলছে আবাদি জমির মাটি লুটের মহোৎসব।
বিভিন্ন বসতঘর ও ব্যক্তিগত রাস্তা ভরাটের কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে এসব মাটি। এস্কেভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটেেনেয়ার ফলে জমির উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচলিত ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিরেকে আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরিস্তর কর্তন একটি দন্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ কৃষক আক্ষেপ করে বলেন,“বাপ-দাদার আমলের জমি চোখের সামনে শ্মশানে পরিণত হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে উল্টো হুমকি দেয়া হয়। কৃষকদের অভিযোগ, টপসয়েলেই ফসলের প্রধান পুষ্টিগুণ ও জৈব উপাদান থাকে। এ স্তর কেটে নেয়ায় আগামী কয়েক বছর ওই জমিতে কোনো ফলন পাওয়া যাবে না। শুধু আবাদি জমিই নয়, মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাকের লাগাতার চলাচলে এলাকার কাঁচা ও পাকা রাস্তাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। মাটি কাটার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাজিদ মিয়া চরম দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে বলেন, মাটি কাটতে আমাদের কোনো অনুমতি লাগে না। অনেক পুলিশ ও আর্মি আমাদের লোক। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নাম ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, একটি জমির টপসয়েল তৈরি হতে কয়েক দশক সময় লাগে। একবার এ স্তর কেটে ফেললে ওই জমির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। জামালগঞ্জের এ খাদ্যভান্ডার রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে অভিযান জরুরি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুশফিকীন নূরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাজিদ মিয়ার মতো ভূমিদস্যুরা যদি আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তবে অচিরেই এ অঞ্চলে আবাদি জমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তারা অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *