মৌলভীবাজারে শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজারে শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শ. ই. সরকার (জবলু) :: মৌলভীবাজারে শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে। শহরের মামার বাড়ী রেষ্ঠুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিতেএ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের স্বল্প আয়ের মৎস্যজীবীরা ২০০৯ সালে ২১ সদস্যবিশিষ্ট শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন (নং ১০৬৯) লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বলাই বর্মন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ৩ জন সদস্য মৃত্যুবরন করায় বর্তমানে ১৮ সদস্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সমিতির সব সভা আনুষ্ঠিত হতো বলাই বর্মনের বাড়ীতে। সমিতির মাসিক সঞ্চয়, বিশেষ সঞ্চয় আদায়সহ আয়-ব্যয়ের সব হিসেব তার কাছে রক্ষিত থাকতো। তারা টপকা, চাতল ডিগা, পূর্ব শেওয়াইজুড়ী প্রকাশিত মাছুখালি বিল ও মনু ১২ খন্ড নামে দুটি জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করতে থাকেন। বলাই বর্মনের সহযোগিতায় বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর একই এলাকার ফখরুজ্জামান ও শফিউল আলম উক্ত জলমহাল দখল ও সমিতির তহবিল আত্মসাতের অপচেষ্টা চালাতে থাকেন। সমিতির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে রসময় সরকারকে সভাপতি ও বলাই বর্মনকে সম্পাদক করে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ করার পর তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সভাপতি ও সম্পাদককে সমিতির সদস্য পদ থেকে ৩ বছরের জন্য বাতিল করা হয়। ১২ আগষ্ট ২০২৩ সালে ভূয়া সভা দেখিয়ে সমিতির ৫ জন সদস্যকে বাতিল ও ৫ জন সদস্যকে ভর্তি দেখানো হয়। জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্তে বিষয়টি প্রমানিত হয়। সমিতির সদস্যরা ভূয়া সভাপতি রসময় সরকার ও ভুয়া সম্পাদক বলাই বর্মনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জুডিশিয়েল আদালতে সিআর ৫৯৩/২০২৫নং মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের ব্যাপাারে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সমিতির সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে তারা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান- সমিতি বা জলমহালের সাথে ইউনিয়নের সাবেক ৩ বারের চেয়ারম্যান শামীম আহমদের কোন সংশ্লিষ্ঠতা না থাকলেও তাকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদিক সম্মেলনে উপেন্দ্র সরকার, দুর্গা সরকার, সুশান্ত সরকার, কালী দাস, সুজন দাস, সজল দাসসহ সমিতির অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তবর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনেরও দাবী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *