সুরমার ঢেউ সংবাদ :: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাসিয়া (খাসি) সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ‘সেং কুটস্নেম’ উদযাপিত হয়েছে ২২ নভেম্বর শনিবার। কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার খাসি সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ নেন। খাসিয়া বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এবার ১২৬তম বর্ষকে বিদায় ও ১২৭তম বর্ষকে বরণ করে নিয়েছে খাসিয়া সম্প্রদায়।
খাসিয়ারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সাজসজ্জায় সেজে নেচে-গেয়ে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। ‘সেং কুটস্নেম’ উৎসবের দিন সবাই মিলে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে আনন্দে নিজেদের সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন। অনুষ্ঠানস্থল পুরো মাঠ জুড়ে মেলা বসে। বিভিন্ন স্টলে খাসিয়ারা পোশাক, পান, তীর, ধনুক, বাঁশ-বেতের তৈরী জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেন। এ উৎসবে সিলেট বিভাগের প্রায় ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জির মানুষ এসে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরাও এ অনুষ্ঠানে আসেন।
এবার অনুষ্ঠানস্থল মাঠের মাঝখানে একটি বড় বাঁশ পোতা ছিলো। সেই বাঁশে দড়ি ও কাগজের টুকরা লাগিয়ে পুরো মাঠ সাজানো হয়েছিলো। মাঠের চারপাশে বাঁশ, তালপাতা, খেজুর পাতা ইত্যাদি দিয়ে সাজানো ছিলো ছোট ছোট দোকান।
মাঠের একপাশে তৈলাক্ত বাঁশের খুঁটির ঠিক ওপরে রাখা ছিলো একটি মুঠোফোন। নিচ থেকে তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেছেন অনেকে। অনেক চেষ্টার পর একজন বাঁশ বেয়ে ওপরে উঠে ফোনটি জিতে নেন। আরেক পাশে তীরধনুক নিয়ে লক্ষ্য স্থির করে তীর ছুড়েছেন কয়েকজন তরুণ। কেউ আবার গুলতি দিয়ে সামনে রাখা লক্ষ্যে ছুড়ে মেরেছেন। নারীরা এসব প্রতিযোগিতায় নেই। তাঁরা ব্যস্ত পান গোছানোর প্রতিযোগিতায়। মাঠের মধ্যে রাখা পানগুলো কার থেকে কে কত কম সময়ে গোছাতে পারেন, সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন তারা।
খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ও মাগুরছড়া পুঞ্জির হেডম্যান জিডিশন প্রধান সুচিয়াং বলেন- সিলেট বিভাগের প্রায় ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জির মানুষ এসে এ উৎসবে অংশ নেন। দেশ-বিদেশের পর্যটকেরাও এ অনুষ্ঠানে আসেন। খাসি সেং কুটস্নেম বা বর্ষ বিদায় খাসিয়াদের একটি সার্বজনীন উৎসব।

