সুরমার ঢেউ সংবাদ :: যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগে ইচ্ছুক। তারা এজন্য সহায়ক পরিবেশ চান। কারণ, যে কোনো দেশে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ডুয়িং বিজনেস (সহজে ব্যবসা করার সূচক) রিপোর্টে উন্নতি, সুশাসন, মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়ন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন জরুরী। ঢাকা সফরকারী ব্রিটিশ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল গত ৪ জানুয়ারী শনিবার বাংলাদেশ ইনভেষ্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) এর সঙ্গে এক বৈঠককালে এসব দাবি করেছেন।
এছাড়াও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রশংসাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্যবসায়ি সংগঠন ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউকেবিসিসিআই) এর উদ্যোগে আয়োজিত ৭ দিনব্যাপী এ সফরের নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বৃটিশ এমপি ড. রুপা হক, ইউকে বিসিসিআই সভাপতি এমজি মৌলা মিয়া এমবিই, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বজলুর রশিদ এমবিই, মিডল্যান্ড রিজিওন সভাপতি ইমাম উদ্দিন আহমেদ, সদস্য আবু সুফিয়ান রনি, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ও এম এ কাদির। উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক এশিয়া’র পরিচালক আশরাফুল হক চৌধুরী, সুরি ইউনির্ভাসিটির এসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ওয়াইউ জিয়ং, স্পিনর টেক লিমিটেডের প্রধান কর্মকর্তা কেন সু ও পরিচালক ইভা ঝাং, ম্যাট ট্যাম, গিনি লন্ডনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রবিন্দ্র জাং লামিছানি প্রমুখ। বিডা’র চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিডা’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী একেএম ফজলুল হক, সেক্রেটারি ড. দেওয়ান চৌধুরী প্রমুখ।
বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বৃটিশ এমপি রুপা হক জানান- বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী। এজন্য তারা বিনিয়োগ-সহায়ক পরিবেশ চায়। তিনি বলেন- যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি সুদৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অনেক ক্ষেত্র আছে। আমরা এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশে অনেক ব্রিটিশ কোম্পানি রয়েছে। এরমধ্যে অনেকেই বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ জানান- এ সফরের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে বৃটিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এ সফরের মাধ্যমে আপতত কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যাল ও গার্মেন্টস সেক্টরে বিনিয়োগ আসবে।
সভাপতি এমজি মৌলা মিয়া জানান- এরপরেও আরও বিনিয়োগ আসবে। এটি প্রাথমিক পর্যায়। তবে, বিশ্বব্যাপী এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সেক্টরের দিকে বেশি আগ্রহ রয়েছে বৃটিশ ব্যবসায়ীদের। এ বছরের শেষ নাগাদ এ সফরের বিনিয়োগ অসতে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান। তিনি ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা করতে ইচ্ছুক ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানান।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বজলুর রশিদ এমবিই, জানান- এ সফরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

