সুরমার ঢেউ সংবাদ :: সম্প্রতি সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমী থেকে ৫ গুণীজনকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এ গুণীজনদের সবাই যোগ্য নিঃসন্দেহে। কিন্তু, শিল্পকলা একাডেমির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কান্ডজ্ঞানহীনতা সচেতন মহলকে অবাক করেছে। নাম অনুযায়ী ৫ গুণীজনের ৪ জনই হিন্দু ১ জন মুসলীম। এর মাধ্যমে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমী কি বার্তা দিয়েছে ? সিলেটে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা কি শুধু হিন্দুরাই করেন ? মুসলীম, খ্রিষ্টান, আদিবাসী, চা জনজাতি, তারা কেউ কি শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা করেননা ? এটা তো কোন প্রতিযোগিতা নয় যে, পরীক্ষার মাধ্যমে তাদেরকে নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসংখ্যার আনুপাতিক বিচারে গেলে তো ১০ জন গুণী নির্বাচন করলে ৯ জনকেই নিতে হবে মুসলীম সম্প্রদায় থেকে। তবে, শিল্পের বিচারে কিছুটা ছাড় দেয়া যায়। মনে রাখা উচিৎ, এ দেশে মফস্বল পর্যায়ে মুসলীম পরিবার থেকে যে সকল ছেলে মেয়ে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে আসে, তাদের একইসঙ্গে কট্টরপন্থী আলেমদের রক্তচক্ষু এবং পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে আসতে হয়। এতো সংগ্রামের পরে তারা যদি একটু সম্মাননা পেতেও বৈষম্যের শিকার হন, সেটা তো অবশ্যই দুর্ণীতি। সংগত কারণেই প্রশ্ন দেখা দেয়- কারা এ দুর্নীতি করেছে ? কারা এ দুর্নীতির সাথে জড়িত ? কাদেরকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এ জুরি বোর্ড এবং কারাই বা এর মদদ দাতা ?
জেলায় হিন্দু, মুসলীম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ৪ ধর্মের লোক রয়েছেন। আরও রয়েছেন বিভিন্ন জাতি ও চা জনগোষ্টি। শিল্পকলার ১০ ক্যাটাগরি অনুযায়ী গুণীজন এসব সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে আছে। কিন্তু, যারা সমাজের সুবিধাভোগী গুণীজন, শিল্পকলা একাডেমী তাদেরকেই সহজে খুঁজে পায়। প্রত্যন্ত গ্রামে পড়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত গুণীজনদের জীবনবৃত্তান্ত এবং প্রামান্য তথ্য পাওয়া খুব দুষ্কর। তাই শহর এলাকার অধিপতি শ্রেনীর হিন্দু মুসলীমরাই মূলতঃ এ সম্মাননা লাভ করেন। অবশ্য ১/২ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যেও মাঝেমধ্যে এ সম্মাননা জোটে। সোজাসাপটা বলতে গেলে রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননায় সমাজের প্রতিটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিৎ। উচ্চ শিক্ষিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লোক সংস্কৃতি গবেষক যেমন গুণীজন, তেমনি পাহাড়ি গ্রামে তাঁত বুনে যে নিরক্ষর রমণী নতুন নতুন শিল্প সৃষ্টি করেন, তিনিও তো গুণীজন। শিল্পকলা একাডেমী তাদেরকে একমঞ্চে সম্মাননা দিলেই তো সার্থক হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্মার্ট বাংলাদেশ। এ সম্মাননা শুধু ১টি বা ২টি সম্প্রদায়ের সুবিধাভোগী গুণীজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কেন ? সে দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে, সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমীর গুণীজন মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি সুন্দর হয়নি। যেখানে সকল শ্রেণী, সকল সম্প্রদায়ের গুণীজনদের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিৎ, সেখানে এটা একটি সম্প্রদায়ের গুণীজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এটা অনিয়ম, এটা অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। (সৌজন্যে সৌমিত্র দেব টিটু)

