সুরমার ঢেউ সংবাদ :: চট্টগ্রাম জেলে ১৬ নভেম্বর ২০২২ সাল থেকে বন্দি এক বিএনপি নেতা ১৮ এপ্রিল ২০২৪ সালে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষণ করেছেন ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার ৪ নম্বর সেক্টরের নওয়াব হাবিবুল্লাহ বাহার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এবং এসময় জাহিদুজ্জামান তানভীন নামে এক ছাত্র নিহত হয়। আর, এ ঘটনায় ঢাকার তুরাগ থানার বাসিন্দা শাহরিয়ার মান্নান আনিফ নামে এক ব্যক্তি ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেছেন ২০২৬ সালে। ‘অবিশ্বাস্য’ এ ঘটনার ভূক্তভোগী হচ্ছেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য কাইছ উদ্দিন। তিনি পটিয়া উপজেলার বুধপুরা এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফের পুত্র। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর)
জানা যায়- কাইছ উদ্দিন ২০০২ সালে পটিয়া কালিয়াইশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি, ২০০৩ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ২০১৬ সালে (জলিল-খোরশেদ) উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং ২০২২ সালে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনও করেন। অথচ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে তিনি স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে দাখিলী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক এবং ১৮ জুলাই ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছিলেন।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙার মামলাসহ ৫টি মামলা হয় আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে। সেসব মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৬ নভেম্বর ২০২২ সাল থেকে তিনি চট্টগ্রাম জেলে বন্দি। অথচ, সেই সরকার পতনের লক্ষ্যে ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের ওপর গুলি করার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে তারই বিরুদ্ধে। আর, সেই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক।
জানা যায়- হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী নগরীর বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকা থেকে কাইছ উদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। পরে তাকে বাকলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সম্প্রতি তিনি জামিন লাভ করেন। কিন্তু, ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার তানভীন হত্যা মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয় এবং চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ১৩ জুন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জেলের রেকর্ড অনুযায়ী- ঢাকায় দায়ের করা মামলায় ছাত্র আন্দোলনে হামলার যে ঘটনা ও তারিখ দেখানো হয়েছে (১৮ এপ্রিল ২০২৪), ওই তারিখে কাইছ উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলে বন্দি ছিলেন।
আইনজীবীরা বলছেন, কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তিকে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগে আসামি করা এবং সেই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি রাখার ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। মামলার আইও’র উচিত ছিল শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনা উচিত। কারণ, এটি কেবল দায়িত্বে অবহেলা কিংবা তথ্য যাচাইয়ে গুরুতর অপরাধ নয়; একজন নিরপরাধ ব্যক্তির জীবনকে বিভীষিকার দিকে ঠেলে দেয়া।
মো. কাইছ উদ্দিনের ছোট ভাই সুমন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাই এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন এবং বিএনপি করতেন, এটাই ছিল তার অপরাধ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবশালী চক্র আওয়ামীলীগের আমলে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকার পতনের পর তাকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। টাকার কাছে যে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এভাবে বিকিয়ে যায়, তা অবিশ্বাস্য। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের আইজিসহ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

