প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে, বুঝতে ও লিখে প্রকাশ করতে পারে : শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার

প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে, বুঝতে ও লিখে প্রকাশ করতে পারে : শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার

শ. ই. সরকার (জবলু)/খলিলুর রহমান :: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ম্বাক্ষর করে গড়ে তোলার নিমিত্তে প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয় সাবলীলভাবে পড়তে পারে, পড়ে বুঝতে পারে এবং তা লিখে প্রকাশ করতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার নিমিত্তে গণিতের প্রাথমিক চার নিয়ম যথা যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ শিখানোর দায়িত্ব শিক্ষকদেরকে নেয়ার আহবান জানান। জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক অফিসের আয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ কামরুল হাসান এনডিসি, পরিচালক ( প্রশিক্ষণ), সিলেট ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্জু লাল দে, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ দেবসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন- একটা ছোট্ট মামলার জন্য কী হচ্ছে ? আমাদের ৩২ হাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। আর, প্রধান শিক্ষক পদ যদি শূন্য থাকে, সেই স্কুল চলবে কী করে ? আমাদের সহকারী শিক্ষকগণ কোনো প্রমোশন ছাড়াই শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন, আমরা তাদের প্রমোশন দিতে পারছি না। আর, যদি সেই ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হতো, তাহলে ৩২ হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। শুধু একটি ছোট্ট মামলার জন্য এটা হচ্ছে না। আমি দেখছি এবং আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন- সফল স্কুলের দৃষ্টান্ত থেকে ধারণা নিয়ে বাকি স্কুলগুলো নিজেদের উন্নত করতে পারে। শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। শিক্ষকদের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও একাডেমিক নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে হাজার হাজার শিশুর আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। একটা স্কুলই হচ্ছে একটা কার্যকর ইউনিট। এর ওপরে যে কার্যকর ইউনিট রয়েছে জেলা অফিস বলেন, থানা অফিস বলেন, অধিদপ্তর বলেন, মন্ত্রণালয় বলেন, ওইগুলো হচ্ছে সমন্বয়ের জন্য, সহযোগিতার জন্য। প্রকৃতপক্ষে মূল কাজটা পরিচালিত হয় আমাদের স্কুলগুলোতে। আর, স্কুলগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকতো, আমি কী করতাম ? প্রত্যেকটা স্কুলকে পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতাম। আর, যার নেতৃত্বে থাকতেন একজন প্রধান শিক্ষক। এতেকরে একই সঙ্গে তাদের দায়বদ্ধতা থাকত, বছর শেষে বেজমেন্ট এলাকায় কতজন শিক্ষার্থীকে তারা আকৃষ্ট করতে পেরেছেন তাদের স্কুলে এবং তাদের থেকে যে প্রোডাক্ট বের হয়ে আসছে, তা কতটুকু মানসম্মত এটার জন্য তারা অবশ্যই দায়বদ্ধ থাকতেন। কিন্তু, তারা তাদের কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা স্বায়ত্তশাসন গঠন করবে এবং অন্য সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হবে তাদের সহযোগিতা করা, মনিটরিং করা।
এটা এ মুহূর্তে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। কিন্তু, সত্যি যদি আমাদের দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই আমাদের জনগোষ্ঠীর এটা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি পরিচালক ( প্রশিক্ষণ) মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সকলকে অঙ্গীকার করার আহবান জানান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ১ম ও ২য় পর্যায়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করেন।
সভাপতি জেলা প্রশাসক প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *