তাহিরপুরের স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনগুলোর উন্নয়নসহ রঙ্গাছড়া খালসহ সীমান্ত নদী ও ছড়াগুলো খননের দাবী

তাহিরপুরের স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনগুলোর উন্নয়নসহ রঙ্গাছড়া খালসহ সীমান্ত নদী ও ছড়াগুলো খননের দাবী

সুরমার ঢেউ সংবাদ :: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বাগলী, চারাগাঁও ও বড়ছড়া স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনসহ স্থানীয় রঙ্গাছড়া খালসহ সীমান্ত নদী ও ছড়াগুলো খননের জোরালো দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা। গণদাবীর প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ ১ নির্বাচনী এলাকা (জামালগঞ্জ মধ্যনগর ধর্মপাশা ও তাহিরপুর) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল জাতীয় সংসদে পর্যটন স্পটগুলোসহ ঐ এলাকার সবগুলো স্থলবন্দর শুল্ক ষ্টেশন এলাকার আশপাশে টেকসই পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবী উত্থাপন করেছেন। জানা যায়, ১৯৯১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশন, ১৯৯৬ সালে সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল চারাগাঁও শুল্ক ষ্টেশন ও ২০০৬ সালে নজির হোসেন এমপি বাঘলী শুল্ক ষ্টেশনের উদ্বোধন করেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলার খাসিয়া পাহাড়ের রানিকর ব্লকের অতি সন্নিকটে অবস্থিত এ ৩টি শুল্ক টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টন চুনাপাথর আমদানী করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ে রয়েছে প্রায় ৫শত চুনাপাথর, কয়লা, সিলিমানাইট, কাউলিন, গ্রানাইট ও বেলেপাথরসহ হরেক রকম খনিজ সম্পদের গুহা- যা উপমহাদেশের দীর্ঘতম ও গভীরতম এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সুসমৃদ্ধ। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে এসে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়ের গড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে যাদুকাটা নদী। সীমান্ত থেকে সরাসরি নেমে এসেছে বাগলী শুল্ক স্টেশন এলাকার রঙ্গাছড়া নদীটি। বর্ষাকালে এ নদীটি তীব্ররুপ ধারন করে পাহাড়ি ঢল ও বালু পাথর বহন করে নিয়ে আসে। চারাগাঁও শুল্ক ষ্টেশন সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে আসা ছড়াগুলো দিয়ে প্রচুর পরিমান বাংলা কয়লা ও বালু পর্যন্ত ভেসে আসে- যা স্থানীয় শ্রমিকরা সংগ্রহ করেন। সীমান্ত ছড়া ও যাদুকাটার একাংশের পানি মিলিত হয়ে স্থানীয় পাটলাই নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। একমাত্র এ নদীটিই শুল্ক ষ্টেশনগুলো থেকে কয়লা ও চুনাপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের মূল নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দীর্ঘ ৩৫টি বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কাঙ্খিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ায় সমস্যার আবর্তে হাবুডুবু খাচ্ছে স্থলবন্দরগুলো। বর্তমানে ৩টি স্থলবন্দর সংলগ্ন পাটলাই নদী নাব্যতা সংকটে নিমজ্জিত। বালিতে ভরাট হয়ে গেছে রঙ্গাছড়া নদীসহ সবগুলো ছড়া। এ অবস্থায় নদী ও ছড়া খননের দাবী সকল স্তরের ব্যবসায়ী ও জনগনের প্রাণের দাবীতে উন্নীত হয়েছে। বাগলী কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীকারক সমিতি’র সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরজামাল, যুগ্ম সম্পাদক হাবিবনূর সিদ্দিকী,ক্যাশিয়ার আব্দুল আলীম, বাগলী বাজার সমিতির সভাপতি ডাঃ রায়হানুল ইসলাম, বাগলী শ্রমিক সমবায় সমিতির মোঃ আবু তাহের ও তুহিন মিয়া বলেন, সীমান্ত থেকে প্রবাহিত হওয়া মূল রঙ্গাচড়াসহ পাটলাই নদীর ৭ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত নদীপথ বর্তমানে প্রবল নাব্যতা সংকটে পতিত রয়েছে। এই অমানবিক অবস্থায় আমরা হাজার হাজার শ্রমিক ব্যবসায়ীর জীবন জীবিকা ও কয়লা চুনাপাথর আমদানীর স্বার্থে নদীপথটি খনন, রঙ্গাছড়া নদীর দুইপাড়ে ৩ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইযুক্ত পাকা সংযোগ সড়ক স্থাপন এবং বাগলী থেকে বারেকটিলা ও বাগলী থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি বাগলী থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের দূরত্বে মধ্যনগরের মহেষখলা পর্যন্ত চলমান পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে, আমরা অতি সহজে যেমন আমাদের আমদানীকৃত চুনাপাথর ও কয়লা সহজে পরিবহন করে তুলনামূলক কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারব, তেমনি আমরা স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত শাকসব্জীরও ন্যায্যমূল্য পাবো। তারা ইউনিয়নের সকল জনসাধারণের সুবিধাজনক স্থানে একটি কলেজ স্থাপন করারও দাবী করেন সরকারের কাছে। কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের চাঁরাগাঁও শাখার সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ফরিদ উদ্দিন ও সচিব আশরাফুল ইসলাম আকাশ চারাগাঁও শুল্ক ষ্টেশনের চুনাপাথর ও কয়লা বহনকারী কাচা রাস্তাকে টেকসই পাকা রাস্তায় উন্নীতকরনের দাবী জানিয়েছেন। কাস্টমস এন্ড ভ্যাট বিভাগের বড়ছড়া এলসি স্টেশন অফিসার মোঃ জামাল হোসেন, মংসাসিং মারমা ও বাগলী স্টেশন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ভারত হতে কয়লা ও চুনাপাথরবাহী ট্রাকগুলো সহজে বৈধপথে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী করার লক্ষ্যে বারেকটিলা থেকে মহেষখলা পর্যন্ত মূল সড়কটির সাথে পৃথক ৪/৫টি সংযোগ সড়কগুলোকে টেকসই পাকারাস্তায় উন্নীত করা জরুরি প্রয়োজন।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বারেকটিলা থেকে মহেষখলা পর্যন্ত মূল পাকা সড়কটির কাজ চলমান রয়েছে। স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সংযোগ সড়কগুলো সদিচ্ছা থাকলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের থোক বরাদ্দ থেকে সম্পন্ন করতে পারতেন।
ইতিমধ্যে ৪/৫টি কম দূরত্বের সংযোগ সড়কের জন্য ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবনা দিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুমোদন হলে এ রাস্তাগুলো করা সম্ভব হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, তাহিরপুরের শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলসি স্টেশন সংলগ্ন রঙ্গাছড়া নদী, চারাগাঁও ও বড়ছড়া এলাকার ছড়া ও খালগুলো খননের জন্য ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *