সুরমার ঢেউ সংবাদ :: মৌলভীবাজারে মিরকো ফাউন্ডেশনের ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনডিসি মোহাম্মদ আবিদ হোসেনের সভাপতিতত্বে, মিরকো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম মেহেদী হাসানের পরিচালনায় ও পরিচালক আনহার আহমদ সমশাদের সঞ্চলনায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিরপুর হুসাইনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন।
ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন তামিম আহমদ। তিলাওয়াতকৃত আয়াতসমূহের বাংলা অনুবাদ পাঠ করেন মাওলানা জুবায়ের আহমদ। মিরকো ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মিনারা আজমী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার কাজি নাদিমুল হক।
বক্তব্য পর্বে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ।
নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশরাফুল আলম খান।
কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল মাজেদ মিয়া ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন।
সামাজিক সুরক্ষা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান।
পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম।
দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
নিরাপদ মাছ উৎপাদন, মাছের পুষ্টিগুণ ও জনস্বাস্থ্যে মাছের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন।
অপতথ্য, গুজব, ভুয়া ফটোকার্ড, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য শনাক্তকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই এবং ফ্যাক্টচেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জল শীল।
জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরেন জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোহসিন।
পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আলোচনা করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভুঁইয়া।
শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. মাজহারুল মজিদ।
মাদকবিরোধী সচেতনতা, সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সহকারী প্রসিকিউটর এস এম সোহেব রহমান।
সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা, ব্যাংকিং কার্যক্রমে সচেতনতা, আর্থিক লেনদেনে সতর্কতার বিভিন্ন দিক, ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, মৌলভীবাজার জেলা শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামাল হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শামছুল ইসলাম, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুল, মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) নিলুফা ইয়াছিন, পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ খাঁন, ব্যাংক অফিসার্স এসোসিয়েশন, মৌলভীবাজার শাখার সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ মম।
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল মাজেদ মিয়াকে সভায় স্বল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ, তথ্যবহুল ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়।
সবশেষে সভাপতি এনডিসি মোহাম্মদ আবিদ হোসেনের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সচেতনতামূলক সভার সমাপ্তি হয়। সভা শেষে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন মিরপুর হোসাইনিয়া মাদরাসার তিনতলা ভবনের শুভ উদ্বোধন, মাদরাসা প্রাঙ্গনে ভেষজ বৃক্ষের চারা রোপন ও ভাষাসৈনিক মরহুম বদরুজ্জামানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ করেন। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী ফ্রী চক্ষু ক্যাম্প। এতে একহাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ঔষধ ও চশমা প্রদান করা হয়েছে। ৩৫ জন ছানীপড়া রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

