মৌলভীবাজারে অসুস্থ্য ও আশ্রয়হীন ভবঘুরে এক নারীকে ঢাকার সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে হস্তান্তর

মৌলভীবাজারে অসুস্থ্য ও আশ্রয়হীন ভবঘুরে এক নারীকে ঢাকার সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে হস্তান্তর

রুহুল আলম রনি :: মৌলভীবাজারে মানসিক অসুস্থ্য ও আশ্রয়হীন এক ভবঘুরে নারীকে ঢাকার সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে হস্তান্তরের জন্য পাঠানো হয়েছে ১৩ জুলাই সোমবার। মানসিক অসুস্থ্য ভবঘুরে ওই নারীর নাম খাদিজা নাজমিন। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এর উদ্যোগ ও আহ্বানে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ এবং বিআইএস প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শেখ মুহিবুর রহমান মুহিবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ১৩ জুলাই সোমবার অভিযান পরিচালনা করে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে উন্নত খাবার দিয়ে আপ্যায়ণের পর পুলিশী ৩ সদস্যের নিরাপত্তায় বিআইএস এর নারী সদস্য ও ইউপি মেম্বার রিতা দেব তাকে নিয়ে গিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে হস্তান্তর করেছেন।
জানা গেছে- খাদিজা নাজমিনের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের লংগুরপাড় এলাকায়। তিনি পূর্বে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে করেন। এক পুত্রসন্তান জন্মের কিছুদিন পরে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে ওই পুত্রসন্তানের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মুসলীমের সাথে প্রেম, ধর্মান্তরিত হওয়া, মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে এবং পরবর্তীতে বিবাহবিচ্ছেদ ইত্যাদি কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় পতিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আশ্রয়হীন ও ভবঘুরে জীবনযাপন করে আসছিলেন। মাসখানেক আগে এক বিকেলে খাবার প্রদানের বিনিময়ে রাজী হয়ে আলাপচারিতার সুবাদে উপরোক্ত তথ্য জানিয়েছিলেন খাদিজা নাজমিন নিজেই। তবে, এসব তথ্যেও সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
সম্ভবতঃ এরই ধারাবাহিকতায় দির্ঘদিন যাবৎ তিনি শহরের কোর্ট রোডস্থ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ‘স্প্রিং কর্ণার’ এর দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ফুটপাতে অবস্থান করছিলেন। তার অনিয়ন্ত্রিত আচরণের কারণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সার্কিট হাউস, আশপাশের সরকারি দপ্তরে আগত সেবাগ্রহীতা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির শিকার ও বিব্রত হচ্ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও বিশৃঙ্খল আচরণ করতেন। এর ফলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিলো। এদিকে, স্প্রিং কর্ণারটি ১০ বছরের জন্য ইজারাগ্রহীতা ব্যবসায়ী জাকির চৌধুরী জানান, প্রায় ৩ বছর আগে স্থানটি ইজারা নিলেও ওই নারীর অবস্থানের কারণে তিনি ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করে আসছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে খাদিজা নাজমিনকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ, শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৌলভীবাজার এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম. মুহিবুর রহমান মুহিব, উপদেষ্টা শামীম তরফদার, সাংগঠনিক সচিব কামরান চৌধুরী, সমাজকর্মী আকতার আহমদ, নির্বাহী পরিচালক আবু সামাদ সুজেল, কার্যনির্বাহী সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, রেদওয়ান আহমদ ছামী, বিআইএস মহিলা বিভাগের সদস্য রিতা দেব, ফাতেমা বেগম, ছামিয়া আক্তার, শিলা বেগম, সুমাইয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সংশ্লিষ্টরা বলেন- যথাযথ চিকিৎসা, পুণর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ পেলে মানসিক অসুস্থ্য ও আশ্রয়হীন অনেক মানুষই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। বিআইএস মৌলভীবাজার জানিয়েছে, এ ধরনের মানুষের জন্য মৌলভীবাজারে একটি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *