মৌলভীবাজারের ঘড়ুয়ায় দুই শহীদের বাড়ী-ভূমিতে থামছেনা হার্ট ফাউন্ডেশনের আগ্রাসন

মৌলভীবাজারের ঘড়ুয়ায় দুই শহীদের বাড়ী-ভূমিতে থামছেনা হার্ট ফাউন্ডেশনের আগ্রাসন

শ. ই. সরকার (জবলু) :: মৌলভীবাজার শহরতলীর ঘড়ুয়া গ্রামের ‘পন্ডিত বাড়ী’ খ্যাত দুই শহীদের বাড়ী-ভূমিতে থামছেনা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার’র আগ্রাসন। এক শরিকান সুধেন্দু বিকাশ দাশ এজমালী ভূমি বেআইনীভাবে দান করার প্রেক্ষিতে অপর শরিকান মৃতঃ পুর্ণেন্দু বিকাশ দাশের স্ত্রী কল্যাণী দাশগুপ্ত ও পুত্র পংকজ দাশগুপ্ত বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব বাটোয়ারা মামলা (নং- ০৬/২০২৩ইং) দায়ের করেছেন- যা বিচারাধীন রয়েছে।
বেআইনীভাবে দানকৃত এজমালী ভূমির অর্ধাংশে মূল বসতঘরের পাশেই ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার তড়িঘড়ি করে স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করলে বাড়ীর পানি নিষ্কাষন নালা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, বাড়ীর ও পুকুরের পানি নিষ্কাষন হতে না পারায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই উঠানসহ বসতঘরের চারপাশে পানি জমে যায়। বৃষ্টির দিনে স্থায়ী কার্যালয়ের পয়োট্যাংকি চুইয়ে পয়োবর্জ্যরে পানি এবং বাথরুমের বর্জ্য পানি গড়িয়ে বাড়ীর উঠানে পতিত হয়। নামে ফাউন্ডেশনের স্থায়ী কার্যালয় হলেও, কালেভদ্রে পরিচালনা কমিটির সভা ছাড়া ফাউন্ডেশনের কোন কার্যক্রম এখানে চলে না। এটি এখন প্রায় খামার বাড়ীতে পরিনত হয়েছে। সেখানে ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির নিয়োগকৃত কেয়াটেকার রিপন মিয়া সস্ত্রীক বসবাসরত। দানপত্র অনুযায়ী ফাউন্ডেশনের ভূমি ১৪টি দাগে প্রতিটি দাগের অর্ধেক অর্ধেক হিসাবে ১ একর ২৭ শতক। এর মধ্যে বাড়ীর অর্ধেক ছাড়া বাকী সব ভূমি ধানীজমি। প্রতিটি দাগের অর্ধেক অর্ধেক হলেও, ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটি বাড়ীর অর্ধেক এবং তৎসংলগ্ন কয়েকটি দাগের ধানিজমি পুরোটাই মাটি ভরাট করে স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করেছে। বাকী প্রতিটি দাগের পুরো ধানীজমিতেই কেয়াটেকারকে দিয়ে ধান চাষ করানো হচ্ছে। বাড়ীর অপরাংশ থেকেও বাঁশ-গাছ কাটিয়ে নেয়া হয়েছে। অপরাংশের শরিকানদের বাঁধা-আপত্তি মানছেনা। শুধু তাই নয়, অপরাংশের শরিকানদের বর্গাচাষীকে ধান চাষ করতে দিচ্ছেনা। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং পন্ডিত বাড়ী সংলগ্ন প্রতিবেশী আনোয়ার ইকবাল ও তার ছোটভাই নুরুল ইসলাম কামরান এসব আগ্রাসন পরিচালনা করছেন বলে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সুধেন্দু বিকাশ দাশের আমমোক্তার হিসাবে আনোয়ার ইকবাল ০৬/২০২৩ইং স্বত্ব বাটোয়ারা মামলা পরিচালনা করছেন। ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ মোশাহিদ আহমদ চুন্নুকে আসামী করা না হলেও তিনি আদালতে আবেদনপূর্বক আসামী পক্ষভূক্ত হয়েছেন।
উক্ত মামলা দায়েরের পরবর্তীতে এই আনোয়ার ইকবাল ও নুরুল ইসলাম কামরানের উদ্যোগে দুরুদ মিয়া, সাচ্চু মিয়া, হুমায়ুন আহমদ, ইমন মিয়া, জুবায়ের আহমদ, নির্মল কান্তি দেব, রিপন দেব প্রমুখ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বৈঠক করে মামলার বাদী কল্যাণী দাশগুপ্ত ও পংকজ দাশগুপ্তকে সামাজিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা এবং বৈঠকের ছবিসহ তা ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। ফলে, এলাকায় নিরাপত্তাহীন হয়ে মামলার বাদীরা শহরে ভাড়াবাসায় বসবাস করছেন। এ বিষয়ে দুই দুইবার জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দুই দুইবারই সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়। কিন্তু, প্রায় দুইবছরেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে, তারা এখনও শহরের বসবাসরত। এ কারণে তারা বাড়ীর কোন সংস্কারও করতে পারছেন না। সম্প্রতি এক প্রতিবেশীর সহায়তায় মজুর সংগ্রহ করে বাড়ীর পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করালে, ওই প্রতিবেশীকে বলা হয়েছে তাদেরকে সহায়তা না করতে। এসব বিষয় অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয়রা তথ্য প্রদানে রাজী হননি। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কেয়ারটেকারকে ধান কর্তনরত দেখা গেছে। বাঁশ কাটার আলামতও পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে সভাপতির নির্দেশে কাজ করছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একটি সূত্র জানায়- ইকবাল ও কামরান মৌলভীবাজার চেম্বার ও জেলা বিএমএ এর সাবেক সভাপতি ডাঃ এম এ আহাদের ছোটভাই এবং তারা শহরের নামদামী এমবি ক্লথ ষ্টোরের মালিক হিসাবে ঘড়ুয়া গ্রামের ও শহরের প্রভাবশালী। এজন্য গ্রামের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেনা। এ কারণে পন্ডিতবাড়ীর সংখ্যালঘু হিন্দু কল্যাণী দাশগুপ্তা ও পংকজ দাশগুপ্ত অসহায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *