রাজনগরে মৃতদেহ উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীকে গণধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে–মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার

রাজনগরে মৃতদেহ উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীকে গণধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে–মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার

সুরমার ঢেউ সংবাদ : মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় মৃতদেহ উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীকে গণধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমেদ। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের পর পুলিশ এ ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ নারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরমধ্যে ২ জন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায় শিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছে। ৬ জুলাই সোমবার দূপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের মৃতঃ তরমুজ মিয়া ওরফে তম্মু মিয়ার পুত্র জমশেদ মিয়া (৫২), চাঁনভাগ গ্রামের হোসেন খাঁর পুত্র বাদশা খাঁ (৩২), সৈয়দনগর (ভাঙ্গারহাট) গ্রামের ইলাছ মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া (৩০), চাঁনভাগ (টিলাগাঁও) গ্রামের মজিদ মিয়ার স্ত্রী এনা বেগম ওরফে গোলাপী (৩৫), একই গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনিখাই গ্রামের মৃতঃ আব্দুল কাদিরের স্ত্রী সালমা বেগম (২৫)। পলাতক রয়েছেন মৌলভীবাজার বড়দল গ্রামের মৃতঃ শেখ আবুল কালাম আজাদের পুত্র শেখ হুমায়ুন আহমদ (২৫)।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) প্রেস ব্রিফিং-এ জানান, গত ১২ জুন সকালে রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরভাগ ইউপিস্থ চাঁনভাগ দক্ষিন টিলা গ্রামে জনৈক মুকুল মিয়ার আকাশী গাছ বাগানের একটি গাছ থেকে অজ্ঞাতনামা মহিলার (১৮-২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধার, আলামত জব্দ ও ময়না তদন্তে গণধর্ষন ও হত্যার আলামত পুলিশ আসামীদের ধরতে তার দিক নির্দেশনায় মৌলভীবাজার সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে রাজনগর থানার ওসি আবুল হাসিম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম, এসআই বিনয় ভূষন, এসআই কালাম ও এসআই অজিত কুমার তালুকদারসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিম ব্যাপক তদন্তে নামে। একপর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়াকে আটক করে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়া স্বীকার করেন তাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও ৫ আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে খুন হওয়া নারী একজন দেহব্যবসায়ী ছিল। আসামী সালমা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অজ্ঞাতনামা মৃতঃ নারীর ছদ্মনাম সুমি বেগম। তবে তার কোন ঠিকানা জানেনা এবং মৃতঃ সুমী বেগমকে (ছদ্মনাম) আসামী সালমার নিকট দিয়েছিল জনৈক রুকশানা বেগম।
আসামীরা সালমা বেগমের কাছ থেকে ২ হাজার টাকার চুক্তিতে মৃতঃ সুমী বেগমকে (ছদ্মনাম) একরাতের জন্য ভাড়ায় এনেছিল। তাকে প্রথমরাতে আসামীরা এনা বেগম ওরফে গোলাপীর বাড়ীতে রেখে অসামাজিক কাজ করেছিল। দ্বিতীয় দিন কাজ করতে না দেয়ায় তারা তাকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। তবে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কাছ থেকে ওই অজ্ঞাত নারীর পরিচয় এখনো পুলিশ সনাক্ত করতে পারেনি।
প্রেস বিফ্রিং-এ সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *